01 November 2020

বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মুখে অবশেষে সুর নরম করলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো

 


নবী মুহাম্মদ (স.)-এর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ছাপানোয় প্রকাশ এবং এর পক্ষে নেয়া আগের অবস্থান থেকে অবশেষে সরে এলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো। বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠার পর এবার সুর নরম করলেন তিনি। গতকাল শনিবার সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাতকারে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (স.) এর কার্টুন প্রকাশ করায় মুসলিমদের অনুভূতি আমি বুঝতে পেরেছি। তবে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনীতে সরকারের কোনো হাত নেই। এটি একটি স্বাধীন সংবাদপত্র প্রকাশ করেছে। পত্রিকাগুলোর উপর সরকারের কোনো হাত নেই।

ম্যাঁখো জানিয়েছেন, তিনি যা বলছেন তা রাজনৈতিক নেতারা ‘বিকৃত’ করে উপস্থাপন করছে। জনসাধারণকে তারা বলছে, ব্যঙ্গচিত্র ফ্রান্স সরকারের সৃষ্টি।
এ ব্যাপারে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি মনে করি, আমার কথা ভুল ও বিকৃত করে উপস্থাপনের জন্যই এই প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। কেননা, মানুষ বুঝেছে যে, এসব কার্টুন আঁকায় আমি সমর্থন দিয়েছিলাম।”
“এসব ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন সরকারের কোনো প্রজেক্ট না। এগুলো এসেছে মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যম থেকে, যেগুলোতে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
যারা ইসলাম বিকৃত করে তাদের আচরণে মুসলমানরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেও মন্তব্য করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আমার বক্তব্য প্রকাশ হওয়ার পর মুসলিমদের অনুভূতি আমি বুঝতে পেরেছি। তাদের অনুভূতিকে আমি সম্মান জানাই। কিন্তু সবাইকে বুঝতে হবে, আমি বর্তমানে কি ভূমিকা পালন করছি।
আল-জাজিরাকে দেওয়া বিশেষ একটি সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন ম্যাখোঁ। ফ্রান্সের ব্যঙ্গাত্মক ম্যাগাজিন শার্লি এবদোতে নবী মোহাম্মদ (স.) বিতর্কিত কার্টুন ছাপানোর জের ধরে ফ্রান্স সরকার ও মুসলিম বিশ্বের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে দেশটির প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য আসলো।
ফরাসি পত্রিকা শার্লি এবদোতে নবী মুহাম্মদ (স.) বিতর্কিত কার্টুন ছাপা নিয়ে গোটা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্ট হয়েছে। সম্প্রতি এর জের ধরে ফ্রান্সে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিহতসহ অনেকে আহত হয়েছেন।
বিতর্কিত কার্টুন ছাপার জেরে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি প্যারিসে শার্লি এবদো কার্যালয়ে ঢুকে গুলি চালিয়ে ১২ জনকে হত্যা করে উগ্র ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা। সূত্র : আল জাজিরা


পায়েল হত্যা মামলার রায়ে অভিযুক্ত ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত



 হানিফ পরিবহণের চালক ও সহকারীদের হাতে নিহত চট্টগ্রামের ছেলে ও বেসরকারি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র আলোচিত সাইদুর রহমান পায়েল হত্যা মামলার রায় আজ রোববার ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে অভিযুক্ত ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

চলন্ত বাস থেকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সাইদুর রহমান পায়েলকে (২১) নদীতে ফেলে হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

রোববার দুপুরে ঢাকা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, হানিফ পরিবহনের সুপারভাইজার জনি, চালক জামাল হোসেন ও সহকারি ফয়সাল হোসেন। এ মামলায় মোট ৯ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২১ জুলাই রাতে চট্টগ্রামের বাসা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে মুন্সিগঞ্জ এলাকায় হত্যার পর পায়েলের মরদেহ ফেলে দেয়া হয় নদীতে। ২৩ জুলাই মুন্সিগঞ্জের ভাটেরচর সেতুর নিচের খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।